Stock News 24

Fresh from BPL T20 Cricket

Showing posts with label KalerKantho. Show all posts
Showing posts with label KalerKantho. Show all posts

Wednesday, 18 January 2012

খোদ ডিএসই সিএসইতেই বিভ্রান্তির ভূত

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ, জেনে ও বুঝে বিনিয়োগ করুন।' 'গুজব, কানকথা বা কোনো মহলের মন্তব্যের ওপর ভর করে নয়, কম্পানির আর্থিক ভিত্তি দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন।' বিনিয়োগকারীদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে এ রকম নানা আপ্তবাক্য লেখা থাকে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের ওয়েবসাইটে। অথচ ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জ কর্তৃপক্ষ গতকাল মঙ্গলবার প্রমাণ করল, তারা নিজেরাই কতখানি বিভ্রান্ত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুঁজিবাজারে লেনদেনে বিধিনিষেধের খবরে বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে_এ আশঙ্কায় গতকাল লেনদেন শুরুই করেনি প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পরিষদ। চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জ প্রতিদিনের মতো গতকাল লেনদেন শুরু করলেও ডিএসইর সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করে মাত্র এক মিনিট ৫৭ সেকেন্ড পর লেনদেন বন্ধ ঘোষণা করে। পরে সংক্ষিপ্ত এ লেনদেন বাতিল করা হয়। নিজেদের উদ্যোগে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জে লেনদেন বন্ধ করার নজির এই প্রথম। এক এঙ্চেঞ্জের সার্ভার চালু করা, অন্যটি বন্ধ রাখা_এটিও সমন্বয়হীনতার বড় নজির।
অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব না হলে আজ (বুধবার) থেকে শেয়ারবাজারে যথারীতি লেনদেন চলবে বলে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Sunday, 19 June 2011

সরকারি ২১ কম্পানি এখন শেষ ভরসা

চার মাস স্থগিত থাকার পর আবারও জোরালো হচ্ছে পুঁজিবাজারে সরকারি কম্পানির শেয়ার ছাড়ার দাবি। বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্টক এঙ্চেঞ্জের নেতারাসহ বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ দাবি করেছেন।
ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভী এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কাটাতে চাহিদার সঙ্গে জোগানের ভারসাম্য থাকা জরুরি। বর্তমানে একটু একটু করে বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে। এ সময় সরকারি শেয়ার ছাড়ার প্রয়োজনীয়তা আবার দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাজার যখন অতিমূল্যায়িত হয়েছিল, সে সময় সরকারি শেয়ার ছাড়লে এ ধরনের বিপর্যয় হতো না।

Friday, 4 February 2011

সিডিবিএলের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন লেনদেন নিষ্পত্তিতে জটিলতা

ইলেকট্রনিক শেয়ার সংরক্ষণকারী একমাত্র কম্পানি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেডে (সিডিবিএল) ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বুধবার এবং গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তিতে (সেটেলমেন্ট) বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। রাজধানীর পল্টন এলাকায় ঝুলন্ত তার অপসারণ কার্যক্রম চলাকালে এ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এদিকে এ সমস্যা দূর করার আগেই বৃহস্পতিবার সিডিবিএলের রাজধানীর তোপখানায় অবস্থিত মূল সংরক্ষণাগারে (ডিজাস্টার রিকভারি) সমস্যা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দুপুর ২টার দিকে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। দুদিনের এ ঘটনায় শেয়ারবাজারে কারসাজির তথ্য ধ্বংস করে ফেলার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
স্বাভাবিক অবস্থায় শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ হওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিষ্পত্তি করা হতো। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় বুধবার টেলিফোন ডায়াল আপ লাইনের মাধ্যমে কিছু কিছু ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন নিষ্পত্তি সম্ভব হয়। কিন্তু অধিকাংশ হাউসই এ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির কাজ শেষ করতে পারেনি। একপর্যায়ে দুই শতাধিক ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিকে তাদের প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নিয়ে সরাসরি সিডিবিএলে আসতে হয়। ওইদিন রাত ৮টায় সিডিবিএলের একটি সংযোগ টেলনেট চালু হয়। বুধবার রাত ১১টায় সবকটি (চারটি) সংযোগ চালু হয়। কিন্তু গতকাল সকালে আবারও সংযোগগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় সিডিবিএলের মূল সংরক্ষণাগারেও (ডিজাস্টার রিকভারি) সমস্যা সৃষ্টি হয়। অবশ্য দুপুর ২টার দিকে টেলিনেটের সংযোগ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। এ সময়ের মধ্যে মূল সংরক্ষণাগারের সমস্যাও সমাধান করা হয়। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকি থাকা তিনটি ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়নি। বর্তমানে শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ কম হওয়ায় লেনদেন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। ইন্টারনেট সমস্যা সমাধানের আগেই লেনদেন বৃদ্ধি পেলে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে দেশের শেয়ারবাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে খোদ সিডিবিএল কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
এ বিষয়ে সিডিবিএলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শুভ্র কান্তি চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ কম হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অবশ্য আগামী দুদিন (শুক্র ও শনিবার) লেনদেন বন্ধ থাকায় বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। এরই মধ্যে ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ইন্টারনেট সমস্যার সুযোগ নিয়ে প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটিয়ে কারসাজির প্রমাণ ধ্বংস করা হতে পারে অনেকে আশঙ্কা করছেন। শেয়ারবাজারে কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যাপকভাবে আলোচিত একাধিক ব্যক্তি সিডিবিএলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হওয়ায় তাঁদের পক্ষে এ ধরনের বিপর্যয় ঘটনো অসম্ভব নয় বলে কোনো কোনো বাজারবিশ্লেষকরাও মনে করছেন। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিকল্প পন্থায় লেনদেন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে সিডিবিএলের তথ্যভাণ্ডার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে মনে করছেন তথ্য-প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন হাউস থেকে নিয়ে আসা কম্পিউটারের কোনো একটিতে ক্ষতিকর ভাইরাস থাকলে তা সিডিবিএলে সংরক্ষিত তথ্য ধ্বংস করে দিতে পারে। এতে শেয়ারবাজারে কারসাজির প্রমাণ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবের সব তথ্য নষ্ট হয়ে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
তবে এ ধরনের আশঙ্কাকে সম্পূর্ণ অমূলক আখ্যায়িত করে সিডিবিএলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শুভ্র কান্তি চৌধুরী বলেন, 'সিডিবিএলে সংরক্ষিত কোনো তথ্য কারো পক্ষে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। সম্পূর্ণ গুজবের ওপর ভিত্তি করে কেউ কেউ এ ধরনের কথা বলে থাকতে পারেন।

News Source: Link

Friday, 28 January 2011

সহযোগী কম্পানির ১৫০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার প্রস্তাব সামিট গ্রুপের

সহযোগী কম্পানির ১৫০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার প্রস্তাব সামিট গ্রুপের
পুঁজিবাজারে সহযোগী চার কম্পানির শেয়ার কিনতে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমতি চেয়েছে সামিট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড মার্কেন্টাইল করপোরেশন (এসআইএমসি)।
বর্তমান বাজার দরে চারটি সহযোগী কম্পানির মোট ১৫০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়েছে কম্পানিটি। গত ২৩ জানুয়ারি সামিট মার্কেন্টাইল করপোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়ে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এসইসি এবং দুই স্টক এঙ্চেঞ্জে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। চিঠিতে সামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার লিমিটেড, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড এবং ওশেন কনটেইনার্স লিমিটেডের শেয়ার কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সামিট গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফরিদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বাজারের টানা দরপতন ঠেকাতে নিজেদের সহযোগী কম্পানির শেয়ার কেনার প্রস্তাব এসইসিকে দিয়েছি।'

News Source: KalerKonto

পুঁজিবাজার পতন : কিছু প্রশ্ন - very interesting writing

পুঁজিবাজার পতন : কিছু প্রশ্নখোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
আমি পুঁজিবাজারের ক্রেতা, বিক্রেতা বা ব্রোকার কোনোটাই নই। বলা যায় সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি একজন দর্শক মাত্র। সেই সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতা-দালালদের কথাবার্তা কানে আসে। মেলাতে চেষ্টা করি। এই হলো আমার লেখার উপাদান। প্রশ্ন হতে পারে, শোনা কথা লিখছি কেন? জবাবে মনে পড়ছে বাংলা প্রবাদ 'যা রটে, তার কিছু তো বটে।' আর দর্শক হিসেবে যা মনে হয়েছে, তা প্রকাশ করা নৈতিক দায়িত্ব। সত্যতা না থাকলে হারিয়ে যাবে। সত্য হলে সচেতনতা বাড়বে।
২০১০ সালে দুইবার বড় রকমের জোয়ার এসেছিল শেয়ারবাজারে। শেষটা ছিল সেপ্টেম্বরে। এর আগে থেকেই সাংবাদিকরা সাবধানধ্বনি উচ্চারণ করেছিলেন। মনে পড়ে, একজন অভিজ্ঞ অর্থনৈতিক সাংবাদিক একদিন দুপুরে আমার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা উৎকণ্ঠা নিয়ে আলাপ করছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পুঁজিবাজার উল্লম্ফনটি ভয়ংকর অস্বাভাবিক। পতন হলে আরেকটি ছিয়ানব্বই হবে। আমি অনুরোধ করেছিলাম পতনের দুঃস্বপ্নটি না দেখিয়ে সাংবাদিকদের উচিত শোধরানোর উপায় বাতলানো এবং আস্থা বিনষ্ট না করা। সাংবাদিক কথা রেখেছিলেন। আমিও কথা রেখেছিলাম। উৎকণ্ঠাটি বারবার টক-শোসহ বিভিন্ন আলোচনায় প্রকাশ করেছি। কিন্তু কুম্ভকর্ণের নিদ্রাভঙ্গ হয়নি, যদিও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লাখ লাখ মানুষের।
মার্কেটিং তত্ত্বেও 'বাজার' বলতে যা বোঝায়, পুঁজিবাজার তেমন নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। এটি একটি ফটকা কারবার। 'বাজার' ব্যাখ্যা করা যায়। ফটকা কারবার ব্যাখ্যা করা যায় না। কেন ১০০ টাকার শেয়ার ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও কম্পানিটি অচল। এর ব্যাখ্যা কি বাজার অর্থনীতিতে মিলবে? সে জন্যই এটা বাজার নয়। জুয়া খেলা। তবে সংগঠিত বিদেশি পুঁজিবাজার সম্পর্কে এ কথা প্রযোজ্য নয়। সেখানেও জোয়ার-ভাটা আছে, যা মোটামুটি ব্যাখ্যাযোগ্য।
ঢাকা শেয়ারবাজারে সেপ্টেম্বর উল্লম্ফনের পর টক-শোতে বলেছিলাম (যা পরেও বলেছি) যে একটা দুষ্টু ছেলে বিরাট আমগাছটার কচি আগডালে উঠে গেলে,হয় সে ডাল ভেঙে ধপাস করে মাটিতে পড়ে হাত-পা ভেঙে ফেলবে, নচেৎ ধীরে ধীরে সাবধানে নেমে আসবে। নামতে তাকে হবেই। টক-শোতে অনুরোধ করেছিলাম, অন্ততপক্ষে সাবধানতার সঙ্গে ধীরে ধীরে নামতে সবাই যেন সহযোগিতা করেন। নামার কোনো বিকল্প নেই। কেউ বুঝে, কেউ না বুঝে মন্তব্য করেছিলেন, 'বুলিশ মার্কেটে' এমনটা হয়েই থাকে, চিন্তার কিছু নেই। ধারণাটা যে কতটা 'ফুলিশ' ছিল, অনেক দণ্ড দিয়ে তা বুঝতে হলো। একটি সম্ভাবনাময় শেয়ারবাজার গড়ে উঠেছিল। শত শত শিক্ষিত বেকার স্বনিয়োজিত হয়েছিলেন। কর্মসংস্থানের একটি নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছিল। জুয়াড়ি সিন্ডিকেটের চক্রান্তে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতায় (সহায়তায়?) লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলো। কর্মচ্যুত হলো অনেক যুবক। ভাবতে অবাক লাগে, এত সবের পর একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী (যিনি সজ্জন ব্যক্তিও বটে) সাংবাদিকদের কাছে বললেন, শেয়ারবাজার পতনে সরকারের কিছু আসে যায় না! 'ওয়েট অ্যান্ড সি'_এ ধরনের মন্তব্য করাই কি তার পক্ষে শোভন হতো না?
ঘুরেফিরে যে কথাটি বারবার কানে আসছে, তা হলো সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে গত চার মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা, নাকি আনহোলি অ্যালায়েন্সের একটি সিন্ডিকেট মেরে দিয়েছে। সিন্ডিকেটের মূল সদস্যসংখ্যা নাকি দেড় থেকে দুই ডজনের বেশি নয়। তবে বিও অ্যাকাউন্ট গণনা করলে, সহযোগী ও বেনামিসহ সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে। মূল খেলোয়াড়রা নাকি বেশির ভাগ বিএনপি ঘরানার, যদিও পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তিরা। সংসদে দেখা-সাক্ষাৎ না হলেও পুঁজিবাজারে হরিহর আত্মা। বুঝহ সেজন, যেজন জানো হে সন্ধান।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন আছে। বিধিবিধান আছে। আছে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, সিকিউরিটি অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন। শোনা যায়, নিয়ন্ত্রক নাকি নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে! তাও নাকি সিন্ডিকেটের হাতে! সবাই তো সরকারকে দোষারোপ করছে। সরকার কোনো ব্যক্তি নয়। সরকার চলে বিভিন্ন বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ সংস্থা দায় এড়াবে কিভাবে? সরকার কি অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত করবে? কমিশন কি পুনর্গঠিত হবে?
বাতাসে অনেক কথা ভেসে বেড়াচ্ছে। কিছু কিছু কথা তুলে ধরছি, কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করছি। দেখা যাক, সরকার ক্রিয়াশীল না ভাবলেশহীন! নাকি প্রতিক্রিয়াশীল!
একটি মুখরোচক রটনা হলো এই যে সিন্ডিকেটের বেশির ভাগ সদস্য বিএনপিপন্থী। আওয়ামীদের নেতৃত্বে তারা কাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। পুঁজি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতায়। উদ্দেশ্য দুটি। হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া গেল। একই সঙ্গে মহাজোট সরকারকে একহাত দেখিয়ে দেওয়া হলো। এক ঢিলে দুই পাখি শিকার! রটনাটি কিন্তু পরীক্ষাযোগ্য। তদন্ত করে নামে-বেনামে কারা অধিক উপার্জন করেছে, তার তালিকা বের করা সম্ভব। তাদের রাজনৈতিক রংও নির্ণয় করা সহজ। সিন্ডিকেটের আওয়ামী সদস্যদের চিহ্নিত করাও কঠিন নয়। সরকারের কোনো কোনো ক্ষমতাশালীর মাধ্যমে তারা বাধাহীনভাবে লুটতরাজ ঘটিয়ে চলেছিল, তাও উচ্চপর্যায় থেকে শনাক্ত করা যায়। কারণ কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ওপর থেকে হয়ে থাকে। ওই সব সিদ্ধান্তের তদবিরে কারা ছিলেন, সেটি যাচাই করলেই আলামত পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন কঠিন সদিচ্ছা এবং আত্মসংশোধনের অঙ্গীকার।
দু-একটি বাজারের রটনা তুলে ধরা যাক। কোনো ইঙ্গিত মেলে কি না দেখার জন্য। প্রথমেই আসা যাক সিকিউরিটি অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের একজন বহুল আলোচিত মেম্বারের বিষয় নিয়ে। শোনা যায়, তাঁকে নাকি এখন 'নিষ্ক্রিয়' করা হয়েছে। আবার এও শোনা যায়, তিনি নাকি পদত্যাগ করেছেন। এই সদস্যের বিষয়ে সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে, মেসেজ পেঁৗছে যেত এবং অনেক অঘটন হয়তো ঘটত না। এই সদস্যকে 'মেম্বার' হিসেবে প্রথম টার্ম শেষ করার পর দ্বিতীয় টার্মের জন্য পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কয়েক মাস আগে। তখন শুনেছিলাম, ওই সদস্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চুক্তিপত্র সই না করেই তিন বছর চাকরি করেছেন, যা চাকরিবিধি অনুযায়ী একটি অনিয়ম। পুনর্নিয়োগের আগেই ওই সদস্য সম্পর্কে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সতর্কবাণী পেঁৗছানো হয়েছিল মর্মে আমি নিশ্চিত হয়েছি। তা সত্ত্বেও (এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অসম্মতি সত্ত্বেও) সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁর পুনর্নিয়োগ মঞ্জুর হয়ে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, কোন কোন ক্ষমতাশালী সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তি ওই সদস্যের পুনর্নিয়োগে অবদান রেখেছিলেন, তা আপনার ও সরকারের স্বার্থে তদন্ত করে দেখুন। কালো বিড়াল চিহ্নিত করার জন্য এটি একটি ইঙ্গিত।
বাতাসে আরো একটি কথা ভাসছে। রটনাটি আদৌ সত্য হলে তথ্যটি ভয়ংকর। শোনা যায়, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা নাকি উচ্চপর্যায়ে সিকিউরিটি অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের কোনো এক নির্বাহীর বিষয়ে সর্বৈব মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে ঘোলা জলে মৎস্য শিকার করতে চেয়েছিল। পর্যালোচনায় ধরা খেয়ে যাওয়ায় সংস্থাটি বোকা বনে গেছে। সত্যি এমন কিছু ঘটে থাকলে, বিষয়টি ওখানেই থেমে যাওয়া উচিত। কার স্বার্থে, কিসের বিনিময়ে এবং কোন কর্মকর্তা মিথ্যা রিপোর্ট প্রদানের সাহস পেল, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। তা না হলে, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য সরবরাহ অক্ষুণ্ন থাকবে, যা রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের জন্য ক্ষতিকর।
আরো একটি কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েক মাস যাবৎ। আগে ঘুষের কথা শোনা যেত। কিন্তু তা নয়। এখন শোনা যাচ্ছে, সিন্ডিকেট নাকি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের ছোট, মাঝারি, বড় চাকুরেদের শেয়ার (হালাল ঘুষ?) খাইয়েছে। সিন্ডিকেটই দাম ওঠা-নামা করায়। সে প্রক্রিয়ায় এসব 'গরিবদের' দুই পয়সা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা। আইপিওতে লাভ ভালো। সেগুলো ভাগযোগ করে দেওয়া এসব সহায়কদের মাঝে। ইন্টেলিজেন্সের ইনফরমাররাও বাদ যাবেন কেন? অবৈধ কিছু তো নয়। শেয়ার ব্যবসা তো একেবারেই হালাল। অনায়াস লাভে ইনফর্মারের ইনফরমেশন পাল্টে গেলে অঘটন ঘটে যেতে পারে। সংবেদনশীল পদে নিয়োজিতদের (ছোট-বড় সবাই) শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা উচিত কি না, তা নির্ধারণ করার ভার রাষ্ট্রের। তবে আমার পেশা জীবনের একটি তথ্য পেশ করতে পারি। পাকিস্তান আমলে করাচিতে তৎকালীন বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক হাবিব ব্যাংকের চাকরিতে যোগদান করেছিলাম প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে। অনেক ফরম, নিয়মাবলি ও অঙ্গীকারনামায় দস্তখত করতে হয়েছিল চাকরিতে যোগদানকালে। তার মধ্যে একটি অঙ্গীকারনামায় ছিল শেয়ারবাজার সম্পর্কে। অঙ্গীকার করতে হয়েছিল, 'ব্যাংকে চাকরিরত অবস্থায় আমি পুঁজিবাজারে বা অন্য কোনোভাবে কোনো কম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করব না, করতে সাহায্য করব না, এমনকি তেজি-মন্দা বিবেচনায় নামে-বেনামে বা কোনোভাবে অর্থ বিনিয়োগ করব না।' ব্যাংকারদের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে তখনো কোনো আইনি বাধা ছিল না। কিন্তু নৈতিকতাবিরোধী বিবেচিত বিধায় অঙ্গীকারনামা নেওয়া হতো। সেই থেকে আমি কোনো দিন শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করিনি দীর্ঘ ব্যাংকার জীবনে। শেয়ার নামীয় জুয়া খেলার ব্যাপারে সরকার কি সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবে? বিধিনিষেধ অর্পণ করবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের দু-চারজন কর্মকর্তা পুঁজিবাজারে খেলা খেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজে ও সুনামে কেমন কালিমা লেপন করেছিলেন, সরকার ইচ্ছা করলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারে।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দুটি শব্দ অনেকবার উচ্চারণ করেছেন। প্রকাশ্যে এবং নিভৃতে। শব্দ দুটি ছিল 'আত্মসমালোচনা' ও 'আত্মসংশোধন'। সে উদ্দেশ্যেই এ লেখাটি। বলা হতে পারে, এতই যদি শুভাকাঙ্ক্ষী, তাহলে প্রকাশ্যে না লিখে গোপনে বললেই হতো। হলে ভালো হতো। হয়নি। গোপনে এবং নিম্নকণ্ঠে অনেক বলেছি। কেউ কর্ণপাত করেনি। তাই 'ঘা দিয়ে জাগাতে' চাচ্ছি। মাত্র বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় আংশিক কার্যকর হয়েছে। দুরাচার, যুদ্ধাপরাধী তথা মানবতাবিরোধীদের বিচার শুরুই হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের অনেক অর্জন নষ্ট হয়ে গেছে। উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে এ সরকার। অনেক কাজ বাকি। তাই মুক্তিযুদ্ধের মহাজোটকে আফিম খাইয়ে ঘুমপাড়ানি গান যারা শোনায় তাদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ঘা দিয়ে জাগিয়ে তোলা সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব।
২৩ জানুয়ারি ২০১১

লেখক : সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বর্তমানে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান
News Source: KalerKonto

Tuesday, 12 October 2010

ডিএসইতে শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে লেনদেন #DSE

News Source: http://bit.ly/9CKJDg

ব্যাপক দরপতনের পরদিনই ইউটার্ন শেয়ারবাজারে। রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ১৮৮ পয়েন্ট কমে ছিল। এক দিন পরই গতকাল তা ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৯৬-এ। সে সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। যদিও বাজারের এ আচরণকে স্বাভাবিক হিসাবে মেনে নিতে পারছেন সংশ্লিষ্ট কেউই। তাদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে তার খেসারত সবাইকে দিতে হবে। জানতে চাইলে আইডিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই মুহূর্তে বাজারে তারল্যপ্রবাহ এতটাই বেশি যে কোনো নিয়মের শৃঙ্খলে এটির ঊর্ধ্বমুখী রেশ টেনে ধরা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদেরই বেশি সচেতন হতে হবে।'
তাঁর মতে, বাজারের বর্তমান ধারা রোধের প্রধান উপায় যেকোনো মূল্যে সরবরাহ বাড়ানো। এজন্য সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। ত্বরিতগতিতে সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন কম্পানির শেয়ার ছেড়ে একদিকে সরকার বাজারের স্থিতিশলিতা নিশ্চিত করতে পারে, অন্যদিকে এই বাজার থেকেই সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে। পাশাপাশি দরকার বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও নিয়মের কঠোরতা।
এ ছাড়া গতকালের ইউটার্ন আবারও ভাবিয়ে তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি)। কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনে আরো কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে সোমবার ডিএসইতে লেনদেনের শুরু থেকেই বাড়তে থাকে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। যার প্রতিফলন ঘটতে থাকে সাধারণ মূল্যসূচকে। ফলে শেয়ারের দামের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে সূচকও। লেনদেন শুরুর প্রথম ৪০ মিনিটের মধ্যে সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৭০ পয়েন্টে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩৬২-তে। এরপর তা কিছুটা নিম্নমুখী হতে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এরপর আবার শুরু হয় সূচকের ঊর্ধ্বগতি, যা লেনদেনের শেষ ভাগ পর্যন্ত বজায় থাকে। দিনশেষে সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭৩৯৬-তে গিয়ে থামে। সাধারণ সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে সার্বিক মূল্যসূচকও। আগের দিনের চেয়ে তা ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৬১৫১-তে।
গতকাল সাধারণ সূচক বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে টেলিকম খাতের একমাত্র কম্পানি গ্রামীণফোন, বীমা ও আর্থিক খাতের কম্পানিগুলো। এদিন গ্রামীণফোনের প্রতিটি শেয়ারের দাম আগের দিনের চেয়ে ৯ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২৫৬ টাকা। ডিএসইর সূচক নির্ণায়ক হিসাবে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দামের এক টাকার তারতম্যের জন্য সূচক ৩ পয়েন্টের বেশি বাড়ে-কমে। সে হিসাবে গতকাল গ্রামীণফোনের কারণেই সাধারণ সূচক বেড়েছে প্রায় ৩০ পয়েন্ট। সেসঙ্গে আর্থিক ও বীমা খাতের কম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি সূচকের ঊর্ধ্বমুখী করে তোলে। তবে ব্যাংকিং খাতে ছিল কিছুটা মিশ্র অবস্থা।
রবিবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪০ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছিল মাত্র ২৫টির। আর দরপতন ঘটে ২১২ কম্পানির। সোমবার যেন তার উল্টোটিই ঘটেছে। লেনদেন হওয়া ২৪৫ কম্পানির মধ্যে ১৮৯টির দাম বাড়ে। কমেছে ৪৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল সাতটির দাম।
খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মিশ্র অবস্থার মধ্যেও লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইতে শীর্ষে ছিল ব্যাংকিং খাত। এদিন ঢাকার বাজারের মোট লেনদেনের ৩৭ শতাংশই জুড়ে ছিল ব্যাংক। টাকার অঙ্কে গতকাল ব্যাংকিং খাতের ৫৭৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ব্যাংক খাতের পরের অবস্থানে ছিল আর্থিক খাতের কম্পানিগুলো। সোমবার ডিএসইতে আর্থিক খাতের ২১ কম্পানির ২৯২ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
ব্যাংক খাতের শেয়ারের লেনদেন বাড়ার কারণ সম্পর্কে আইডিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, 'কিছু দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলো তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। একে সামনে রেখেই বিনিয়োগকারীরা এ খাতের প্রতি অতিমাত্রায় ঝুঁকছে।'
সূচক ও শেয়ারের দাম বাড়লেও ডিএসইতে গতকাল লেনদেন আগের দিনের চেয়ে বেশ কমেছে। রবিবার দরপতনের দিনেও ডিএসইতে দুই হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। আর গতকাল সেটি নেমে এসেছে এক হাজার ৫৬৫ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের চেয়ে ৮০০ কোটি টাকা কম। লেনদেন কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা শেয়ারের হাতবদলের প্রবণতা কম থাকার কথা বলেছেন। তাদের মতে, গতকাল বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতা ছিল কম।


বিপর্যয় কাটিয়ে উঠছে সিএসইবিপর্যয় কাটিয়ে উঠছে সিএসই #CSE

News Source: http://bit.ly/bwvVHK
বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে রবিবারের বিপর্যয় কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম এঙ্চেঞ্জ (সিএসই)। তবে শেয়ারের লেনদেন ও টাকার পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কম হয়েছে। শেয়ার কেনাবেচায়ও বিনিয়োগকারীদের ছিল সাবধানি দৃষ্টি। যে কারণে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম। এদিকে গত শনিবার বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় ডিএসই ও সিএসইর যৌথ সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে গতকালও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নতুন বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে আসতে নিষেধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, 'বাজার পরিস্থিতি খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করতেই পারে। তাই বলে নতুন বিনিয়োগকারীদের আপাতত বাজারে আসতে বারণ করা ঠিক হয়নি। এতে শেয়ারবাজার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা আসবে। এ কারণে রবিবার এক দিনেই যে হারে শেয়ারের দরপতন হয়েছে তাতে আজকের সামান্য দরবৃদ্ধিতেও সে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।' তিনি বলেন, 'যেকোনো শেয়ারের যখন অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি শুরু হয় তখন এসইসি থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার আসার পরই তাঁরা এমন ব্যবস্থা নেন।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সিকিউরিটি হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, 'বুকবিল্ডিং পদ্ধতিরও সংস্কার হওয়ার দরকার। এই পদ্ধতিতে কোনো একটি কম্পানির দর নির্ধারণের পর তা সরাসরি পুঁজিবাজারে না এনে আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে দেওয়া উচিত।'
এ ব্যাপারে সিএসইর প্রধান নির্বাহী ড. আবদুল্লাহ মামুনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বাজার পরিস্থিতির উত্থান-পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'শেয়ারের সরবরাহ ও চাহিদা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় এ ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে।'
এদিকে বেশির ভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধি সত্ত্বেও গতকাল সিএসইতে ১৫৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। অথচ রবিবার সিএসইতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেও ২১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। গতকাল ৩৮ হাজার ১৯০ বারে শেয়ার লেনদেন হয়েছে এক কোটি পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৬ লাখ ৫৫ হাজার কম। সার্বিক মূল্যসূচকও গতকাল ১৭৫ পয়েন্ট বেড়েছে। সিএসই সূচক বেড়েছে এক দশমিক ২৮ শতাংশ। দিনশেষে লেনদেন হওয়া ১৮৫টি কম্পানির মধ্যে ১২০টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, দরপতনের তালিকায় ছিল ৫৯টি।


এনসিসি ব্যাংককে দ্বিতীয় দফায়তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

News Source: http://bit.ly/c58PJS

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পুঁজিবাজারে আইনি সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে এনসিসি ব্যাংক। তাই আজ মঙ্গলবার ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকের জন্য তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এনসিসি ব্যাংককে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ১০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে সময়সীমা বেঁধে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসকে সুর চৌধুরীর নেতৃত্বে আজকের বৈঠকে ব্যাংকটিকে পুুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কমানোর চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসকে সুর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ কমিয়ে আইনি সীমার মধ্যে আনতে ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার এনসিসি ব্যাংকের সঙ্গে আমরা বৈঠকে বসব। আপাতত বিনিয়োগ আইনিসীমার মধ্যে আনতে এটিই আমাদের শেষ বৈঠক।'
সূত্র জানায়, বৈঠকে এনসিসি ব্যাংককে আইনি সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ কমিয়ে আনতে বাধ্য করতে বেশ কয়েকটি শর্তের কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে আগামী নভেম্বরের মধ্যে ব্যাংকটিকে সাবসিডিয়ারি কম্পানি চালুর নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। তা করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংকটির ল্যান্ডিং সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকটির শেয়ারবাজারে মোট আমানতের ১০ শতাংশের অতিরিক্ত বিনিয়োগকে এর মূলধন থেকে বাদ দিয়ে ব্যালান্সশিটে হিসাবায়নের শর্তও জুড়ে দেওয়া হতে পারে। এসব শর্ত যথাযথ পালন করা হবে_এ মর্মে ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহীর কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হতে পারে।
সূত্র আরো জানায়, এনসিসি ব্যাংক তার মোট আমানতের ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছে। ব্যাংকটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কমিয়ে আনার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করা হলেও তারা তা আমলে নেয়নি। তবে এখন কোনোভাবেই নভেম্বরের পরে কোনো ব্যাংককেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কমিয়ে আনার জন্য সময় দেওয়া হবে না।

Latest from BPL ground